1. dailysurjodoy24@gmail.com : admin2020 : TOWHID AHAMMED REZA
  2. editor@dailysurjodoy.com : Daily Surjodoy : Daily Surjodoy
  3. towhid472@gmail.com : Towhid Ahmmed Rezas : Towhid Ahmmed Rezas
রংপুর টাউন হল বধ্যভূমি খুঁড়তে মিললো মানুষের হাড়গোর
শনিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২১, ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন

রংপুর টাউন হল বধ্যভূমি খুঁড়তে মিললো মানুষের হাড়গোর

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২০, ১২.১২ এএম
  • ২০ বার পঠিত

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর সিটি প্রতিনিধিঃ

মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর ব্যবহৃত রংপুর টাউন হল টর্চার সেলের পাশের বধ্যভূমি থেকে মানুষের হাড়হাড্ডি ও দাঁত এর অংশ বিশেষ পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার সকালে ওই বধ্যভূমিতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কাজের জন্য শ্রমিকরা মাটি খুঁড়লে এসব হাড়গোর বের হয় ।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিকসহ সাধারণ মানুষজন ছুটে যান টাউন হল বধ্যভূমি চত্বরে। পরে প্রশাসনের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারাও বধ্যভূমি এলাকা পরিদর্শন করেন। এদিকে খনন কাজে নিয়োজিত শ্রমিক জানান, মাটিতে ভরাট হওয়া কুয়ার পাশে ও কুয়ার উপরিভাগ কেবল খোঁড়া হয়েছে। পুরো কুয়া খুড়লে মুক্তিযুদ্ধকালীন নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা যাওয়া মানুষের আরো হাড়গোর পাওয়া যেতে পারে।
এখবর শুনে ছুটে আসেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ ৭১ রংপুর জেলার নেতৃবৃন্দ। পরিদর্শন শেষে হারগোর ও দাঁতের অংশ বিশেষ সেই সাথে কুয়া সংরক্ষনের জন্য জেলা প্রশাসক আসিব আহসান এর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এসময় জেলা প্রশাসক সংরক্ষনের উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেন। স্মারকলিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ ৭১ রংপুর জেলার সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা শাহাদত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম মুকুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম জীবন ও সাকিল মাসুদ, ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি রংপুরের সভাপতি ডাঃ মফিজুল ইসলাম মান্টু। সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ ৭১ রংপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম মুকুল জানান, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মারক এই টাউন হল বধ্যভূমি। পাকিস্তান হানাদার বাহিনী টাউন হলে টর্চার সেল করেছিল। মুক্তিকামী বাঙালি, মুক্তিযোদ্ধা ও নিরীহ মানুষদের ধরে এনে টর্চার সেলে নির্যাতন ও হত্যা করেছিল। মা-বোনদের ইজ্জত লুটসহ তাদের হত্যা করে ফেলে দেয়া হয়েছিলো টাউন হলের পাশের কুয়াতে। আমরা কুয়াটা চিহ্নিত করে বধ্যভুমি ফলক স্থাপন করি। এই ইতিহাসের কথা এতোদিন আমরা সবাই বলছিলাম। হায়েনাদের হাতে মারা যাওয়া মানুষের আজ হাড়গোর মিলছে। আমরা মুক্তিযুদ্ধের মহান ইতিহাস সংরক্ষণ করে অমরগাথা ও স্মারক চিহ্ন জীবন্ত রাখতে চাই।’ আমরা জেলা প্রশাসকের সাথে সাক্ষাৎ করে সংরক্ষণের জন্য বলেছি। এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে বিভিন্ন প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের চেতনার সংস্কৃতিকর্মী ও সংগঠকরা বধ্যভূমি পরিদর্শনে আসেন। উল্লেখ্য, গত ১৬ নভেম্বর ওই স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়। ঐতিহাসিক টাউন হল ও আশপাশের সৌন্দর্যবর্ধন বৃদ্ধিসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বধ্যভূমিটি সংরক্ষণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করছে রংপুর জেলা প্রশাসন। বধ্যভূমিতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ও সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ আগামী বছরের জুনে শেষ হবে। এর জন্য নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ লাখ টাকা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved  2020 DailySurjodoy.Com
Theme Customized BY CreativeNews
error: National News Paper in Bangladesh!